নিউজ ডেস্ক: কোভিড মহামারীতে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই মামার বাড়িতেই থাকতেন অদিতি সিং। তাই এমএসসি পাশ পিতৃ- মাতৃহীন ভাগ্নির বিয়ের আয়োজন করেছিলেন মামারা৷ উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরের বাসিন্দা অদিতি সিংয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছিল তহসিলের নাগওয়া গ্রামের বাসিন্দা অবধেশ রানার সঙ্গে । বুধবার সন্ধ্যায় তাদের ছিল বিয়ে। কিন্তু বিয়ের আসরে যৌতুক হিসেবে 31 লক্ষ টাকা তুলে দেওয়ার সময় বরের কথায় হতবাক হয়ে পড়েন বিয়ে বাড়ীতে উপস্থিত সকলেই।
বিয়ের আসরেই হবু বর বলে বসেন, এটি কনের বাবার জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ ৷ তাই আমি এটা নিতে পারব না। শ্বশুরের কষ্টার্জিত টাকায় আমার কোন অধিকার নেই। যৌতুক হিসেবে দেওয়া 31 লক্ষ টাকা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন হবু বর। ঘটনার আকস্মিকতায় বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই হতবাক।
তারপর, সবাই হাততালি দিয়ে বরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। এতে বিয়ে বাড়িতে আনন্দ অন্য মাত্রায় পৌঁছায়। এরপর সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান ঐতিহ্য অনুসারে বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং উভয় পক্ষের প্রবীণরা নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন। তখন গোটা বিয়ে বাড়িতে একটাই কথা, আজকের সময়েও এমন ছেলে আছে যারা যৌতুকের কথা ভাবে না । এটি সত্যিই প্রশংসনীয় ।
দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় যখন পণ দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে বধূ নির্যাতন বা হত্যার ঘটনা ঘটছে, তখন এক উলটপুরাণের সাক্ষী থাকতে পেরে বিয়েতে সকলেই চমকে যান। রাতারাতি সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আলোচনার কেন্দ্রে এখন ওই নতুন বরই। বিপুল অঙ্কের বিয়ের পণ হেলায় প্রত্যাখ্যান করে রাতারাতি হিরো বনে যাওয়া ওই নতুন জামাইকে নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাসছে শুভেচ্ছার বন্যা।
ছেলের এহেন সিদ্ধান্তে গর্বিত হন তার অবধেশ রানার বাবা-মাও ৷ ছেলেকে সমর্থন করেন তাঁরা ৷ মেয়েটির পরিবারও নতুন জামাই অবধেশ রানা ও তার পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞতা জানায়।