ডেস্ক নিউজ: SIR প্রক্রিয়া খুঁজে দিল ‘নিরুদ্দেশ’ স্বামীকে! বছর আটেক আগে আচমকা স্ত্রী-সন্তানদের ছেড়ে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন স্বামী। নিখোঁজ স্বামীর জন্য ঘাটালের বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী-সন্তানরা। তবে ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা দিতেই পর্দাফাঁস হল বেপাত্তা স্বামীর পরকীয়ার। প্রকাশ্যে এসেছে নিখোঁজ সেই স্বামীর দ্বিতীয় সংসারেও! যদিও বিষয়টা জানাজানি হতেই অদ্ভুত আবদার বেপাত্তা যুবকের। একইসঙ্গে দুই স্ত্রীর সঙ্গেই সংসার করতে চান তিনি।
জানা গিয়েছে, ওই যুবকের নাম কার্তিক মাইতি। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের কিশোরচকের বাসিন্দা তিনি। স্ত্রী মৌসুমী ও দুই সন্তানকে হায়দরাবাদে থাকতেন তিনি। সুখেই কাটছিল জীবন। বছর সাতেক আগে স্ত্রী ও সন্তানদের ঘাটালের বাড়িতে রেখে যান কার্তিক। প্রথমদিকে সমস্যা ছিল না। তবে বছর ছয়েক আগে আচমকা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন কার্তিক। বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও লাভ হয়নি। তারপর পেরিয়ে গিয়েছে এতগুলো বছর। তবে কার্তিকের অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর স্ত্রী। সম্প্রতি রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর। সেই এসআইআরের ফর্ম পূরণ করতে গিয়েই বধূ জানতে পারেন, সোনারপুর থেকে ফর্ম পূরণ করেছেন কার্তিক। প্রথম স্ত্রী মৌসুমী বিএলওর কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে সটান পৌঁছে যান চলে স্বামীর নতুন ঠিকানা দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের নাটাগাছিতে।
সেখানে গিয়ে তো চক্ষুচড়কগাছ! দেখেন, বিয়ে করে ফের সংসার পেতেছেন কার্তিক। রয়েছে সন্তানও। সব মিলিয়ে এক হুলুস্থুল পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার রাতে সবাইকে বাড়িতে নিয়ে আসেন মৌসুমী। অবশেষে দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন কার্তিক। তাঁর ইচ্ছে, দুই স্ত্রীকে নিয়ে একসঙ্গে সংসার করবেন। যদিও তা মানতে নারাজ প্রথম স্ত্রী মৌসুমী।
প্রায় ২০ বছর আগে হায়দরাবাদে সোনার কাজে গিয়েছিলেন কার্তিক। সেখানে কিছুদিন থাকার পর বিয়ে করেন। স্ত্রীকে কর্মস্থলে নিয়েও যান। সেখানেই তাঁদের দু’টি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তাঁদের বড় ছেলের এখন বয়স ১৬। মৌসুমী বলেন, হায়দরাবাদে থাকার প্রচুর খরচ। এই অজুহাতে বছর আটেক আগে আমাকে ও দুই সন্তানকে গ্রামে রেখে ফিরে যান উনি। তারপর থেকেই বন্ধ কার্তিকের ফোন। থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়েছিল।
ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয় এসআইআর চালু হতে। SIR এ মৌসুমীর ফর্ম আপলোড করতে সমস্যা হয়নি। কিন্তু কার্তিকের ফর্ম আপলোড করতেই অ্যাপ থেকে মেসেজ দেখায় সোনারপুরে কার্তিকের নাম এন্ট্রি হয়ে গিয়েছে। এরপরেই বৃহস্পতিবার ভোরে মৌসুমী বাপের বাড়ির সদস্যদের নিয়ে সোনারপুরে যান সে। মৌসুমী বলেন, সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্বামী নতুন সংসার পেতেছে। ওদের একটি মেয়েও আছে। জোর করে ওদের গ্রামে নিয়ে আসি। আর সেই গুনধর স্বামী কার্তিক বলেন, এখন যিনি দ্বিতীয় স্ত্রী তার সঙ্গে হায়দরাবাদেই প্রেম। ওকে বিয়ে করার জন্যই আমি প্রথম স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখিনি। এখন গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাই। দুজনকে নিয়েই একই সঙ্গে সংসার করতে চাই।