শিলিগুড়ি: সেমিতে শক্তিশালী অস্ট্রোলিয়ার মেয়েদের হারিয়ে তৃতীয় বারের মতো মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিলো মিতালি রাজ-ঝুলন গোস্বামীর উত্তরসূরীরা। জেমিমা রদ্রিগেজের ধৈর্যশীল সেঞ্চুরি সহ গোটা দলের মিলিত পারফরমেন্স গোটা ভারতবর্ষের সামনে খুলে দিয়েছিলো এক সোনালী স্বপ্নের রাস্তা। ২ রা নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে সেই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেন এক রূপকথার জগতে পাড়ি জমালো হর্মনপ্রিত কউর, স্মৃতি মন্দনা, দীপ্তি শর্মা, রিচা ঘোষেরা। অপর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে রীতিমতো দূরমুশ করে ফাইনালে ওঠা শক্তিশালী সাউথ আফ্রিকা রীতিমতো ট্রফির মূল দাবিদার ছিলো। কিন্তু যাঁরা ইতিহাস তৈরীর জন্য জন্মেছে, স্বয়ং ভগবানও তাঁদের সঙ্গ না দিয়ে পারেন না। অবশেষে প্রথম মহিলা বিশ্বকাপ ট্রফি আমাদের আসলো শেফালী, দীপ্তদের হাত ধরে। এই পুরো টুর্নামেন্টে রীতিমতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ফিনিশারের ভূমিকা পালন করলো উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির মেয়ে রিচা ঘোষ। ফাইনালে দুটো ছক্কা মেরে একটি বিশ্বকাপে(মহিলা) সবচেয়ে বেশী ছয় মারার রেকর্ড স্পর্শ করলো আমাদের ঘরের মেয়ে রিচা। ফাইনালে রিচার ২৪ বলে ৩৪ রানের দ্রুত ইনিংস ভারতকে একটি শক্তিশালী স্কোর করতে সাহায্য করে যা ভারতীয় মেয়েদের জয়ের পথকে সুগম করে। গোটা ২০২৫ মহিলা বিশ্বকাপে রিচার এই অনবদ্য কন্ট্রিবিউশন তাই মাতিয়েছে তার শহরবাসীদের। সারা দেশের সাথে তাই শিলিগুড়িও চোখেও ঘুম নেই রাতে। সেবক মোর, হাসমিচকে যেন অকাল দীওয়ালি চলছে। চারিদিকে শুধু বাজি ও ঢাকঢোলের আওয়াজ জানান দিচ্ছে বিশ্বজয়ের। শিলিগুড়ি শহরবাসীরা সকলে নেমে এসেছে রাস্তায়। সারারাত ধরে চলছে জয়ের উচ্ছাস।