কোচবিহার: ক্রমশ বাড়ছে ভোটের উত্তাপ। সেই উত্তাপের মধ্যেও কোচবিহারে সৌজন্যের নজির ভোটের ময়দানে। ভোটের ময়দানে একে অপরের যুযুধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী! রাজনীতির ময়দানে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়ছেন না কেউ কাউকে। অথচ বিরোধী সেই প্রার্থীর সাথে ভোট প্রচারে গিয়ে দেখা হতেই তাকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করলেন কোচবিহারের তৃণমূল প্রার্থী। শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথেই সৌজন্য দেখানোই নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে থাকা বিরোধী দলের জেলা সম্পাদকের পা ছুটে প্রণাম করে আশীর্বাদ চাইলেন কোচবিহার উত্তরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায়। শুক্রবার সকালে সৌজনতার ওই ছবি দেখে আপ্লুত এলাকার বাসিন্দারাও।
এদিন সকালে কোচবিহার শহর সংলগ্ন পূর্ব খাগড়াবাড়ি এলাকার বালা পাড়ায় ভোট প্রচারে যান কোচবিহার উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী পার্থ প্রতিম রায় ও সিপিএমের প্রার্থী প্রণয় কার্জি। সেখানেই প্রতিদ্বন্দ্বী দুই যুযুধান প্রার্থীর মুখোমুখি দেখা যায়। বিরোধী প্রার্থীর সাথে দেখা হতেই তাকে জড়িয়ে ধরে কুশল বিনিময় করেন। সেখানে দলের প্রার্থীর সাথে প্রচারে থাকা সিপিএমের জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়কে পা ছুঁইয়ে প্রনাম করেন তৃণমূল প্রার্থী।
রাজনীতিক মহলের মতে, ভোটের রাজনীতিতে এখন বিরোধী প্রতিপক্ষদের প্রতি সৌজন্য দেখানোর ছবিটাই উধাও হতে বসেছিল। সেই রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি আবার ফিরে আসছে সেটাই গণতন্ত্রের ভালো দিক।
তৃণমূলের প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায় বলেন, গণতন্ত্রে সকলেরই নিজস্ব মতাদর্শ রয়েছে, তবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ। আজকে ভোটের প্রচারে গিয়ে সিপিএমের প্রার্থীর সাথে দেখা হয়। বয়সে সে আমার অনেক ছোট। আমি তাকে জড়িয়ে ধরি ও দুজনের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হয়। তার সাথে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী, সিপিএমের জেলা সম্পাদক। তিনি সম্পর্কে আমার মামা হন। তাকেও পায়ে প্রণাম করে তার কাছে আশীর্বাদ চেয়েছি। রাজনীতির ময়দানে লড়াইয়ে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বোনা। নীতি আদর্শের লড়াই হবে। সৌজন্যতার জায়গায় সৌজন্যতা থাকবে।
সিপিএম প্রার্থী প্রণয় কার্জি বলেন, বাম আমলে রাজনীতিতে সৌজন্যতার অভাব ছিল না। এখন সেই চিত্র উধাও। রাজনীতির ময়দানে লড়াই হবে। কাউকে একটুকুও জমি ছাড়া হবে না। আজকে প্রচারে দেখা হয়েছিল বিরোধী দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সাথে। আমি বয়সে অনেক ছোট। এবার প্রথম বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছি। দুজনের মধ্যে সৌজন্য বিনিময় হল।