কোচবিহার: জমি দান করেও জমিদাতার স্ত্রীর চাকুরী না হওয়ায় ১৮ বছর ধরে তালা বন্ধ হয়ে পরে আছে অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র। বাম আমলে চাকুরীর প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি তৎকালীন বাম সরকার। ফলে প্রতিশ্রুতি মত স্ত্রীর চাকুরী না হওয়ায় অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র তালা দিয়ে আটকে রেখে দিয়েছেন জমি দাতা। ফলে ওই অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় বছরের পর বছর ধরে পাশের একটি বাড়িতেই চালছে শিশুদের ওই সেন্টারটি। সরকারি অর্থে তৈরি অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র জোর করে বছরের পর বছর আটকে রাখা হলেও প্রশাসন কোন ব্যাবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় অঙ্গনওয়ারী অন্যের বাড়ির উঠানেই খোলা আকাশের নিচে কার্যত বসে সেন্টারের খাবার খাচ্ছে ওই সেন্টারে আসা ছোট ছোট শিশুরা। বর্ষার সময় সমস্যা আরও প্রকট হয়। অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্রে আসা শিশু ও প্রসুতি মায়েদের বাসার কোন জায়গা না থাকায় ঝড় বৃষ্টিতে দাড়িয়ে থাকতে হয়। শৌচালয় না থাকায় সেন্টারে আসা প্রসূতি মায়েদের সমস্যায় পরতে হয়। অবিলম্বে সমস্যা মিটিয়ে ওই সেন্টারটি চালুর দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
জানা গিয়েছে, ২০০৮ সাল থেকেই শীত, বর্ষা ও গরমে বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলছে দিনহাটার ভেটাগুড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতর রুয়েরকুঠি গ্রামের অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্রটি। বাম আমলে ওই অঙ্গনওয়ারী সেন্টারটির জন্য ২০০৭ সালে জমিদান করেন স্থানীয় বাসিন্দা চন্দ্রকান্ত বর্মন। সেখানে ওই অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্রের জন্য পাকা গৃহ নির্মাণ করে সব রকম পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। কিন্তু সেসময় চাকুরীর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও চন্দ্রকান্ত বর্মনের স্ত্রীর ওই কেন্দ্রের হেল্পার পদেচাকুরী হয়নি। তখন থেকেই ওই সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেন জমিদাতা।
অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্রর জন্য জমিদাতা চন্দ্রকান্ত বর্মন বলেন, স্ত্রীকে ওই সেন্টারে স্ত্রীর হেল্পার পদে চাকুরী দেওয়ার কথা বলেছিল। ২০০৭ সালে চাকুরীর ইন্টারভিউ দিয়েছিল স্ত্রী তার কাগজ পত্রও আছে আমাদের কাছে। সেজন্য আমি জমি দিয়েছিলাম। সেসময়ের বাম সরকারের লোকেরা আমাদের সাথে প্রতারনা করেছে। আমাদের জমির কি কোন মুল্য নেই। তাই প্রতিশ্রুতি মত স্ত্রীর চাকুরী না হওয়ায় তালা দিয়ে দিয়েছি।
এবিষয়ে দিনহাটার মহকুমা শাসক ভারত সিং বলেন, বিষয়টি নিয়ে সিডিপি এর সাথে কথা বলে দ্রুত একটি অল্টারনেটিভ ব্যবস্থা করা হবে।