কোচবিহার: কোচবিহারের রাস্তায় আর চলবে না ঐতিহ্যবাহী দোতলা বাস। ফলে রাজার শহরে হেরিটেজ বাসে ওঠার দিন শেষ। এমনটাই সিধান্ত নিয়েছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম। নিগম সূত্রের খবর, এনবিএসটিসির একমাত্র দোতলা বাসটি পাকাপাকি ভাবে শুধুমাত্র প্রদর্শনীর জন্য রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিগম। ইতিমধ্যেই দোতলা বাসটি প্রদর্শনীর জন্য একটি জায়গাও চিহ্নিত করেছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম। কোচবিহার শহরের সিলভার জুবিলি রোডের পাশে থাকা নিগমের ওল্ড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রদর্শনীর জন্য রাখা হবে। সেজন্য খুব শিগগিরিই বাসটিকে সাজিয়ে-গুছিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হবে। তার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাজ্যের মধ্যে কলকাতা ছাড়া একমাত্র কোচবিহারের রাস্তায় একটা সময়ে দোতলা বাস চলত। পাঁচটি দোতলা বাসের মধ্যে বর্তমানে একটি বাস অবশিষ্ট রয়েছে। সেটি রাখা আছে সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাসে। বাসটিকে মেরামত করে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা হলেও বার বার বিকল হয়েছে। সেটিকে ঠিক করতে প্রচুর খরচও করা হয়েছে। যন্ত্রাংশ না-পাওয়ায় সমস্যা বাড়তে থাকে। তাই আর রাস্তায় না-নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারের মহারাজা জগদ্বীপেন্দ্র নারায়ন ভূপবাহাদুরের হাত ধরে ১৯৪৫ সালে শুরু হয়েছিল কোচবিহার পরিবহন এর পথচলা। পরবর্তীতে এই কোচবিহার পরিবহনের নাম বদলে হয় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা। আর এই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহনের হাত ধরেই ১৯৫৬ সালে কোচবিহারের পথে দোতালা বাস পরিষেবা চালু হয়। প্রথমে একটিমাত্র দোতালা বাস থাকলেও ১৯৬৫ সাল নাগাদ আরও দুটি দোতালা বাস আনা হয়।শুরুতে কোচবিহার থেকে পুন্ডিবাড়ী–সোনাপুর হয়ে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত এই দোতালা বাস চলত। পরবর্তী সময়ে কোচবিহার থেকে তুফানগঞ্জ হয়ে বক্সিরহাট রুটেও চলাচল শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে কিছু সময়ের জন্য ওই বাস পরিষেবা বন্ধ হয়েছে যায়। ১৯৮১ সালে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার উদ্যোগে কোচবিহারের রাজপথে বেশ কয়েকটি দোতলা বাস যাত্রা শুরু করে। সেসময় স্থানীয় মানুষ তো বটেই, বাইরে থেকে আসা পর্যটকরাও দোতলা বাসে চড়ার আনন্দ উপভোগ করতেন। বিয়ে বা অন্য পারিবারিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করার জন্যও এই বাসটিকে ভাড়া নেওয়া হত। জ্বালানি এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় দোতলা বাস পরিষেবা বাম আমলের শেষের দিকে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।
এরপর রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার বাসটি সংস্কার করে চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। যদিও কিছুদিনের মধ্যেই ফের তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর একাধিকবার বাসটি চালুর দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ধিরে ধিরে তিনটি থেকে দোতালা বাস কমে দাড়ায় একটিতে। ২০০০ সালের থেকে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা এই দোতালা বাসকে পর্যটন প্রকল্প সবুজের হাতছানিতে পর্যটকদের ঘোড়ানোর কাজে ব্যাবহার শুরু হয়। সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। আর সবুজের পথে হাতছানি প্রকল্প চালু হলেও তা আর চালু হয়নি। এবার তা পাকাকাপি ভাবেই কোচবিহারের রাস্তায় বন্ধ হলে গেল বলেই মনে করছে সকলে।